দাঁড়ালেই হঠাৎ ‘মাথা চক্কর’

দাঁড়ালেই হঠাৎ ‘মাথা চক্কর’? শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়েছেন—হঠাৎ মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল৷ এই সমস্যা অনেকেরই হয়, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের৷ ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও এটি বড় সমস্যা৷ পজিশন বা ভঙ্গি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ কমে গেলে এমনটি হয়৷ একে বলা হয় অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন৷

হঠাৎ ভঙ্গি পরিবর্তনের ফলে যদি কারও সিস্টোলিক রক্তচাপ আগের চেয়ে ২০ মিলিমিটার পারদ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ১০ মিলিমিটার পারদ নেমে আসে তবেই এই অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন হয়েছে বলে ধরা হয়৷

কেমন লাগে?

হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে কেমন লাগতে পারে? আপনার যদি এমন সমস্যা থাকে তবে মাথা ঘুরতে পারে, মাথা হালকা বোধ হতে পারে, চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন, বমি হতে পারে, এমনকি কেউ কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞানও হারাতে পারেন৷ তবে এই লক্ষণগুলো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘটে এবং নিজে থেকেই রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক হয়ে এলে লক্ষণগুলো চলে যায়৷

কারণগুলো কী?

৬৫ বছর ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অতটা কার্যকর থাকে না বলে তাদের এই ঝুঁকি বেশি৷ গর্ভবতী নারীদেরও এটা বেশি হয়৷ খুব গরমে অনেক ঘাম হলে, বমি বা পাতলা পায়খানা হলে শরীর যদি পানিশূন্য হয়ে যায়, তখন এই সমস্যা হতে পারে৷ ডায়াবেটিসের রোগীদের অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের কার্যকারিতা কমে যায় বলে তারা এই সমস্যায় খুব ভোগেন৷ আবার ডায়াবেটিকদের রক্তে শর্করা কমে গেলেও এমন বোধ হতে পারে৷ হতে পারে হৃদ্যন্ত্রের ভাল্ভ সমস্যায় ও হৃদ্স্পন্দনে গোলমাল, এড্রিনাল গ্রন্থির অকার্যকারিতায় ও পারকিনসনস রোগে৷ বয়স্ক ব্যক্তিদের অনেক সময় ভারী খাবার-দাবারের পর এই সমস্যা হয়, কেননা তখন দেহের রক্ত সংবহন পেটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গর দিকে ধাবিত হয় বেশি, আর হৃদ্পিণ্ডের দিকে কমে যায়৷ বেশ কিছু ওষুধের কারণেও অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন হতে পারে৷ অ্যালকোহল এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়৷

কী করবেন?

হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঝুঁকি যায় বেড়ে৷ বিশেষ করে রাতে টয়লেটে যাওয়ার সময় এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি৷ ঝুঁকি এড়াতে যা করবেন:

বিছানা থেকে নামার সময় হুট করে উঠে দাঁড়াবেন না৷ প্রথমে বিছানার পাশে শান্ত হয়ে কিছুক্ষণ বসুন, জোরে কয়েকবার শ্বাস নিন৷ তারপর ধীরে ধীরে দাঁড়ান৷ কিছুক্ষণ পর হাঁটতে শুরু করুন৷

শরীর পানিশূন্য হতে দেবেন না৷ যথেষ্ট পানি পান করুন৷ একসঙ্গে বেশি খাবার খাবেন না, সারা দিনে অল্প অল্প খান৷

মাথা ঘোরা সমস্যা দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে 

এমন কেউ নাই যিনি মাথা ঘোরা কবলে পড়েননি। কিন্তু অনেকেই নারাজ এটা আসলে অসুখ না। তার কারন এটা যেকোন সময়ে হুট করে আসে আবার হুট করে চলে যায়। মাথা ঘোরার নির্দিষ্ট কোন কারন নেই। এটা কোন রোগ না হলেও ডাক্তারগণ মাথা ঘোরার মাধ্যমে নানা ধরণের রোগ বোঝা সম্ভব বলে মনে করেন। রক্তচাপ কম থাকলে, ডিহাইড্রেশন হলে, মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে বা কোনও রকমের উত্তেজনা বা ভয় থাকলে মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।

তবে দেরি কেন জেনে নিন ঘরোয়া উপায়ে মাথা ঘোরা থেকে মুক্তির উপায়-

মাথা ঘোরা সমস্যায় পড়লে লেবু খান। কারন লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা অনেক বেশি এনার্জি দেয়। মাথা ঘোরার সমস্যাকে কমাতেও এর জুড়ি নেই।

মাথা ঘোরার আরেকটি ঔষদ মধু। মধুতে রয়েছে এমন উপাদান যা প্রচুর পরিমাণে এনার্জি বাড়িয়ে দেয়। মাথা ঘোরার সমস্যাকে কমাতে সাহায্য করে।

মাথা ঘোরা অনুভব করলে এক জায়গায় বসে জোরে জোরে শ্বাস নিন। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছলে অনেক উপকার পাবেন।

ডিহাইড্রেশনের ফলে মাথা ঘোরাতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময়ে। ফলে তা থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খান।

আদা মাথা ঘোরানোর সমস্যায় বিশেষ কাজ দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনকে সঠিক করে তুলে মাথা ঘোরা কমিয়ে দেয়।

প্রতিদিনের ডায়েটে যদি শাক-সবজি, ফল ও নানা ধরনের প্রোটিন রাখা যায় তাহলে মাথা ঘোরানোর সমস্যা হওয়ারই কথা নয়।

পালং শাক, বাদাম, খেজুর ইত্যাদি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার মাথাঘোরার সমস্যাকে দূর করে।

One Response

  1. Avatar SEO Services January 27, 2020

Add Comment