পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে প্রস্তুতি | Exam Preparation Tips

2
50

পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে প্রস্তুতিঃ-পরীক্ষার সর্বশেষ প্রস্তুতি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা যারা লেখাপড়া পরীক্ষার আগে খুব চিন্তিত তাদের জন্য রয়েছে দারুন কিছু টিপস যার মাদ্ধমে তোমারা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিটা খুব সহজেই শেরে ফেলতে পারবে।

পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি

পরীক্ষাকে  দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে করণীয় কিছু কৌশল যেনে নেওয়া যাক। চলো তাহলে যেনে নিই কি কি কৌশল আমরা করবো।

১.মাথা ঠাণ্ডা রাখা খুব জরুরী

শুধু শুধু হতাশ হয়ে মুষড়ে না পরে অল্প যে টুকু সময় বাকি আছে সে সময়টা কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করো।হতাশ হয়ে পরে থাকলে তোমার সময়টা চলে যাবে।তাই হতাশ না হয়ে সময়টা কে কাজে লাগাও।সময় চলে গেলে কিন্তু আর আসবে না।যে টুকু সময় আছে সে সময়টা তে মাথা ঠাণ্ডা রেখে পড়াশোনা করা খুব জরুরী।

২.হাতে নাও জাদুর কাঠি 

যে কোনো বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য তোমার দরকার সেই বিষয় তোমার পাঠ্যবই।তোমার বইটি হাতে নাও এবং আজ আর এখন থেকেই শুরু করো পড়াশোনা।

৩.যেটা পড়বা সেটা লিখো

তুমি যখনি যেটা পড়বা তখনি সাথে সাথে লিখে ফেলো।তাহলে সেটা মনে থাকবে।

৪.সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দাও 

বেশিরভার ছাএ-ছাএীদের দেখা যায়,বাংলা দ্বিতীয় পএ বা সমাজ বিজ্ঞান এর মত সাধারণ বিষয়ের কারণে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয় না।তাই সব বিষয়কে সমান ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

৫.নতুনত্ব বাদ দাও

কারন একটু একটু করে পাঁচটা প্রশ্ন লেখার চেয়ে সম্পূর্ণভাবে চারটা প্রশ্ন লিখা অনেক ভালো।কারণ চারটা প্রশ্ন ভালো করে লিখলে নাম্বার ও ভালো দিবে।তাই নতুনত্ব বাদ দিয়ে যেটা লিখবে ভালো ভাবে লিখো।

৬.নিয়মিত নামাজ আদায় করবে

তুমি যদি আল্লাহ্ কে খুশি করতে পারো আল্লাহ্ তোমাকে খুশি রাখবে ভালে রেজাল্ট এর মাধ্যমে।

৭.পরীক্ষার আগে কোচিং প্রাইভেট দৌড়াবা কম

কোচিং প্রাইভেট না গিয়ে দৌড়াইয়া,এ সময়টা রিভিশন দাও কাজে আসবে।কোচিং এর প্রাইভেটে দৌড়রালে অনেক সময় অপচয় হয়।তাই সে সময়টাতে রিভিশন দাও কাজে আসবে।

পরীক্ষার হলের প্রস্তুতি

পরীক্ষার সময় পড়ালেখার প্রস্তুতি ঠিক যতটা জরুরী আগে ঠিক তেমনি ভাবে মানসিক প্রস্তুতিটা অনেক অনেক জরুরী।ছোট একটা এসভাইস দেই।পরীক্ষার হল থেকে বের হবার সময় আমরা অনেকেই একটা ছোট কাজ করি,বন্ধু বলতো এক নাম্বার এর উওর কি?দুই নাম্বার এর উওর কি?তিন নাম্বার এর উওর কি?এ রকম ভাবে মিলানো শুরু করি।আচ্ছা এটা করার কি দরকার বলো।নিজেই নিজের ভুল খুজে,নিজেকেই চিন্তার মধ্যে ফেলার দরকার নেই।পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে,এম সি কিউ তে তুমি কোথায় কোথায় ভুল করেছো সেটা খোজার কোনো দরকার নেই।

১.পরীক্ষায় যা লিখবে তা ভালো করে রিভিশন দেয়া

পরীক্ষার পর আমার এই জিনিশ টা কাজ করতো বাসায় যেয়ে বার বার চিন্তা করছি, আমি কি বৃত্ত ভরাট করছি!একটা মিস করে ফেলছি।তাহলে আমার সব গুলো মিস হয়ে গেছে হয়তোবা!আরো অনেক জিনিশ মাথায় কাজ করতো।আর ওই জিনিশ টা বার বার মাথার খুত খুতে কাজ করতো।তো যখনি বৃও ভরাট করবে চেক করে দেখো।  তিন বার চেক করো।যদি ভুল হয়েও যায়,তোমার যদি ভয় থাকে আমি যদি ভুল যায়গায় বৃও ভরাট করে থাকি।ভয় পাবার কিছু নাই।টিচার কে আসতে করে দেখাবা।টিচার সাক্ষর দিয়ে কিছু একটা লিখে রাখবে।খাতাটা মেশিনে দেখানো হবে না।তোমার খাতাটা আলাদা মেনুয়েল চেক করা হবে।তুমি যদি বৃও ভরাট ভুলও করো যদি ভুল রোল নাম্বার ও লিখো সমস্যা নাই।যদি তুমি টিচারকে দেখিয়ে আনো।এর পরেও যদি সমস্যা হয়,পরে তুমি আবার চেলেঞ্জ করে রি-চেকাপ করে তুমি জিনিশ টা শুধরে নিতে পারো।তো খুত খুতে ভাবটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতো পারো।

পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাবার পর,তুমি যেটা পাট টা ভালো পারো বা যে প্রশ্নের উওরটা তুমি জানো সেটা আগে লিখবা।

২.পরীক্ষার হলে কি নিবো কি নিবো না

আমার কথাই বলি,আমার প্রথম লিস্টে যেটা থাকে সেটা হলে হাত ঘড়ি।কারণ হলো পরীক্ষার হলে যদি তোমার হাত ঘড়ি না থাকে,তোমার পরীক্ষার পেজ কতটুকু বাড়ানো উচিৎ বা কমানো উচিৎ,সময় আদো আছে কি নাই?প্রশ্নের উওরটা বড় লিখবো না ছোট লিখবো!পুরো পুরি নির্ভর করে হাত ঘড়ির উপর।যদি তোমার হাত ঘড়ি না থাকে। তুমি চিন্তা করলা আচ্ছা পরীক্ষার হলে তো ঘড়ি থাকবে।যদি না থাকে?তাহলে মনে মনে ভাববা স্যার কর জিজ্ঞাস করবো,কিন্তু কয় বার?আচ্ছা আমার আসে পাশের বন্ধুকে জিজ্ঞাস করবো।তখন তোমার স্যার ভাববেন তুমি পড়া জিজ্ঞাস করতেছ।তুমি পারো না নকল করতেছ,ঠিক তখন তোমার অবস্থা আসলেই খারাপ হয়ে যাবে।কারো উপর নির্ভর না করে নিজে ঘড়ি নিয়ে যাবে।

৩. পরীক্ষার দিতে যাওয়ার সময় কিছু ঔষধ নেয়া

আমার এক বন্ধু পরীক্ষা দেয়ার সময় হঠাৎ করে ওর খুব মাথা বেথা শুরু হয় এবং প্রায় একদম বমি বমি ভাব।ও পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে ওয়াশরুমে যেয়ে মাথায় চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেস হতে গেলো।ভাগ্যে জনক ভাবে ও কিছু ঔষধ নিয়ে গিয়েছিল।কিছুক্ষন বিরতি নিলো।ঔষধ খেয়ে আবার 

পরীক্ষা দিতে ফেরত আসলো।শিক্ষনিয় বিষয় হচ্ছে আমাদের যাদের এমন অবস্থা হয় বা হবার সম্ভাবনা থাকে তাদের বা এজমা জাতিয় কোনো সমস্যা থেকে থাকে।তারা যেন ঔষধ গুলো নিয়ে যায়।এবং সাথে যেন সব সময় অবশ্যই পানি রাখে।

৪.অবশ্যই সাথে করে ক্যালকুলেটর নেয়া

পরীক্ষার হলে অবশ্যই দুটি ক্যালকুলেটর  নিয়ে যাবে।কারণ একটা কোনো কারণে নষ্ট হলে যেন আর একটা দিয়ে বেকআপ দেয়া যায়।দুটি ক্যালকুলেটর নিয়ে গেলে তোমারই সুবিধা হবে।খুুব দ্রুত তুমি কাজ শেষ করতে পারবে।।

৫.টিসু পেপার বা রুমাল নেয়া

আমাদের অনেকের প্রায় লিখতে গিয়ে হাত ঘেমে যায়।তখন দেখা যায়,হাতের ঘামে খাতাটা ভিজে যায় বা বেঞ্চে হাত লেগে ময়লা ভরে যায় এবং সে ময়লা খাতায় লেগে খাতাটার ও খুব বাজে অবস্থা হয়।তাই আমরা সাথে করে অবশ্যই টিসু পেপার বা রুমাল নিয়ে যাবো।

টিসু পেপার বা রুমাল নেয়ার আর একটা কারণ হলো।আমি প্রায় সময় দেখেছি বেঞ্চে প্রচুর পরিমাণের ধুলা লেগে থাকে।যা হাতে লেগে হাতের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।ওই হাত দেয়ে যখন পরীক্ষার খাতাটা ধরলাম খাতাটায়  ময়লা লেগে গিয়ে এক প্রকার বাজে দেয়াচ্ছে।তুমি যদি এমন ঝামেলায় না পরতে চাও তাইলে অবশ্যই সাথে করে টিসু পেপরা বা রুমাল নিয়ে যাবে।

৬.এক্সট্রা করে সাথে পেনসিল,রাবার,কলম নেয়া

এই গুলো বেশি করে নেয়ার কারণ হচ্ছে যারা তোমার খাতা দেখবে তারাও কিন্তু মানুষ।একদিনে একশটা দুইশটা খাতা হয়তো তারা দেখবে।তুমি যদি একটু গুছিয়ে লিখো একটু দেখতে যদি সুন্দর হয়।প্রথমেই তোমার খাতাটা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখবে।টিচার তখন ভাববে তুমি খুব পড়াশুনোতে ভালো।এবং ভালে মতো পড়াশোনা করে এসেছো।তাই হয়তো বোনাস এক্সট্রা কিছু নাম্বার পেয়ে যেতে পারো।তো তুমি যা কিছু করো না কেনো উপস্থাপন যদি ভালো হয় এক্সট্রা কিছু নাম্বার কিন্তু চলেই আসবে।

সব থেকে বড় বিষয়টা হলো পরীক্ষার হলে সুন্দর একটা হাসি নিয়ে যাবে।পরীক্ষা খারাপ  হলেও মাথা ঠাণ্ডা রেখো,প্রশ্ন কঠিন হলেও ঘাবড়ে যেও না।একটা শান্ত স্থির মন নিয়ে পরীক্ষার হলে যেও।আর এটা তোমার জন্য সব থেকে সব থেকে জরুরী।

2 COMMENTS

  1. ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য 🙂 আসা করি পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই সময়উপযোগী একটি পোস্ট এটা।

    • আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ । আমাদের পাশেই থাকবেন । শীঘ্রই আরও ভালো কিছু আসবে। 🙂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here