পড়াশুনার পাশাপাশি যেভাবে শরীর ভালো রাখতে হয়। হেলথ টিপস

বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচজনে একজন ডায়াবেটিক ব্যক্তি ডায়াবেটিসজনিত পায়ের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত। যেমন: পায়ের বোধশক্তি, আর্দ্রতা এবং রক্তনালির প্রবাহ হ্রাস, সংক্রমণ বা প্রদাহ, ফোসকা, ফোড়া, সাধারণ এবং গভীর ঘা, গ্যাংগ্রিন বা পচন, চামড়ার শক্ত গুটি, আঙুলের এবং পায়ের আকার ও নখের বিকৃতি ইত্যাদি। নিয়মিত ও সঠিক যত্নের মাধ্যমে এবং রক্তের শর্করা সুনিয়ন্ত্রণে রেখে সহজেই এই ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব। 

প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা

১০ মিনিট কুসুম গরম পানি এবং নরম সাবান দিয়ে পা ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে না ঘষে আলতো করে মুছে শুষ্ক করে নিন। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক শুষ্ক রাখা খুব জরুরি। 

নিয়মিত পর্যবেক্ষণ

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে বাড়ি ফিরে জুতা খোলার পর নখ থেকে গোড়ালি, পায়ের পাতা, আঙুলের ফাঁক পর্যন্ত লক্ষ্য করুন পায়ের শুষ্কতা, লালচেভাব, আঁচড়, কাটাছেঁড়া, ফোসকা, ফোলা, তাপমাত্রার পরিবর্তন, ব্যথা ইত্যাদি আছে কি না। 

  • পায়ের স্নায়ুরোগ (৮০%)
  • পায়ের রক্তনালির রোগ (২০%)
  • অনিয়ন্ত্রিত এবং উচ্চ রক্ত শর্করা।

তরমুজ খেলে শরীরের কী ক্ষতি হচ্ছে জানেন?

তরমুজ খুব উপকারী ফল। আমরা জানি, তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী। কথায় আছে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। তেমনি তরমুজের নানা স্বাস্থ্যকর রুপের আড়ালে রয়েছে ক্ষতিকর দিক। তবে তরমুজে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি। তরমুজে রয়েছে ৯২ শতাংশ জলীয় উপাদান যা শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করে। ফাইবার সমৃদ্ধ তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৬, সি, এবং খনিজ উপাদান পটাসিয়াম যা রোগ প্রতিরোধ করে, ওজন কমাতেও সাহায্য করে। তরমুজের উপকার আমরা অনেক শুনেছি। আজকে তাই ক্ষতির কথা জানানোর চেষ্টা। দেখে নিন বেশি তরমুজ খেলে কি ক্ষতি হতে পারেন।

তরমুজে রয়েছে ফাইবার। তাই অতিরিক্ত তরমুজ খেলে ডায়রিয়া-সহ পেটের নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এতে রয়েছে সরবিটল (সুগার কমপাউন্ড) যার ফলে অম্বল, বদহজমের মতো সমস্যা হতে পারে।

লাইকোপিন নামক রাসায়নিকের কারণে তরমুজের রং উজ্জ্বল ও গাঢ় হয়। লাইকোপিন এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা অধিক মাত্রায় শরীরে গেলে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তরমুজ খুবই স্বাস্থ্যকর ফল। কিন্তু এতে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি। তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরমুজ খেলে ডায়বিটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

নিয়মিত মদ্যপান করেন যাঁরা তাদের জন্য তরমুজ একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ, তরমুজের রাসায়নিক উপাদান লাইকোপিন অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশে লিভারের প্রভূত ক্ষতি করে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তরমুজ খেলে শরীরে জলীয় উপাদান অনেক বেড়ে যায়। ‘ওভার-হাইড্রেশন’-এর ফলে কিডনির নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরও অনেক দুর্বল হয়ে যায়।

তরমুজে থাকে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়াম। এই খনিজ উপাদান আমাদের হার্ট ভাল রাখে, পেশী শক্তি বাড়ায়, হাড়ের গঠন মজবুত করে। কিন্তু, অতিরিক্ত পটাসিয়াম শরীরে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, পালস রেট কমে যায়।

নিউট্রিশনিস্ট রীতেশ তিওয়ারি বলেছেন, প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরির পরিমাণ ৩০ ও শর্করার পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম। একদিনে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত তরমুজ হজম করা সম্ভব, কারণ এতে শরীরে ঢোকে ১৫০ ক্যালোরি। কিন্তু, এর থেকে বেশি তরমুজ খেলে সেটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

খেজুর

প্রতিদিন খান তিনটি খেজুর খেজুর বাংলাদেশের ফল না হলেও প্রায় সারাবছরই এটি এ দেশের বাজারে পাওয়া যায়। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার বেশ কিছু উপকার রয়েছে। চলুন দেখে আসি খেজুরের উপকারগুলো।

আপনি যদি প্রতিদিন তিনটি করে খেজুর এক সপ্তাহ খান, তাহলে সাত দিনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়বে। বাড়বে খাবারের রুচিও। এছাড়াও বাড়াবে হজমক্ষমতা।

খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের এক গবেষণায় জানা যায়, নিয়মিত খেজুর খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। খেজুর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো কোলন ক্যানসারের জন্য দায়ী কোষগুলোকে মেরে ফেলে।

Add Comment