সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস পার্ট -২

0
30

পার্ট ১ এ আমরা ১-৩ নিয়ে আলোচনা করেছি এই পার্ট এ আমরা পরবর্তী স্তম্ব গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

১.১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন
২.১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচন
৩.১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন
৪.১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন
৫.১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন
৬.১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
৭.১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ

পার্ট-১ পড়ুনঃ বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস (১৯৫২-১৯৭১) 

১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন

বাঙালির জন্য শিক্ষাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।তার কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল এই শিক্ষাটি কেন্দ্র করে। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের শরীর কমিশন নামক একটি বিষয় প্রণয়ন করেন।শরীফ কমিশনের অধীনে অনেকগুলো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।

১.ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ
২.স্কুল কলেজের ফ্রি বৃদ্ধি
৩.কোর্সের চাপ বৃদ্ধি
৪.উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত

এই শিক্ষা ব্যবস্থা পরবর্তীতে ১৯৬৪সালে বাতিল হয়ে যায়।বাঙালির আন্দোলনের চাপে পড়ে আইয়ুব খান তার এ শিক্ষানীতিকে বন্ধ করতে বাধ্য হন।

১৯৬৬- এর ৬ দফা আন্দোলন

আমরা এমন কিছু দাবি করেছিলাম সে পাকিস্তান গঠনতন্ত্রের কাছে।যে দাবিগুলো তাদের কোমর ভেঙ্গে দিয়েছিল। ৭ই ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ৬ দফা ঘোষণা করেন।৬ দফা কি কি ছিল তা একটু জেনে নেই।

১.পাকিস্তানকে ফেডারেল রাষ্ট্র ঘোষণা
২.প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ব্যতীত যাবতীয় দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে হস্থান্তর
৩. দুটি প্রদেশের ভিন্ন মুদ্রা প্রচলন অথবা
মুদ্রা পাচার বন্ধে শক্ত নীতিমালা
৪.প্রাদেশিক সরকারের কর ও শুস্ক ধার্যের ক্ষমতা প্রদান
৫.বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা
৬.প্রদেশগুলোর নিজস্ব মিলিশীয়া বা আরাধা সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

১৯৬৬ সালে এই ৬ দফা আন্দোলনের পর আইয়ুব খানের যে বাহিনী ওখানে রয়েছে তাদের কে বাঙালীর উপর খুব জঘন্য ভাবে লেলিয়ে দেয়।পথেঘাটে বাঙালীদের হত্যা করা হয়।লুটপাট করা হয়।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম সে সময়টিতে এই জিনিসটির বিরোধীতা করেন।এবং সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে তিনি একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন।

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

আমরা যদি চাই স্বাধীনতাও করতে পারি স্বাধীনতা ছিনিয়েও আনতে পারি।সম্ভবত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়।শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আরো ৩৪ জন মিলে এ পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র করেছিল।এই মামলাটি ধরে এ ৩৫ জনকে এরেস্ট করা হয়।শেখ মুজিবুর রহমান একটি দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন।এ কারাবন্দি অবস্থায় কিন্তু সমগ্র বাংলাদেশ সমগ্র বাঙালি জাতিকে সমগ্র মানুষকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য। অস্থির হয়েছে এবং তারা রাস্তায় নেমে আসে। তারা বলে এখন আমাদের আন্দোলন করবার সময় এবং আমাদের দাবি টি সোচ্চার হবার সময়।ডাকসুর নেতৃত্বে এ সময় student Action Committee গঠন করা হয়।এবং আরো একবার ছাত্র দের মাধ্যমেই পুরো আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেয়া হয়। students from comedy শুধুমাত্র পড়াশোনার কাজটি করে নি তারা একই সঙ্গে তাতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ছিল সেটিকে তুলে ধরে।এই সময়টিতে প্রধান যে দাবি গুলো ছিল।সে দাবিগুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে যেতে থাকে।সমগ্র বাঙ্গালির মাঝখানে তখন অল্পকিছু স্লোগানই চলছিল।
অন্ন চাই বস্ত্র চাই  বাঁচার মত বাঁচতে চাই এবং রাজবন্দিদের মুক্তি চাই।

২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে আসাদ নামের একজন তরুণ যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হন।আসাদের রক্তমাখা শার্ট যেন বাঙালির রক্তে ভেজা পতাকা হয়ে দাঁড়ায়।আসাদের শার্ট হয়ে যায় বাংলাদেশের পতাকা।সেই সময় সে-শার্ট নিয়ে। বাঙালি আবারো রাস্তায় নামে।এবং আন্দোলনের লিপ্ত হয়।সেই আন্দোলনের সূত্র ধরে পরবর্তীতে
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ভিতরে বন্দী অবস্থায় শহীদ সার্জেন্ট শহিদুল হক হত্যা করা হয়।তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় একজন আসামী ছিলেন।তাকে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয়। এসময় মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী একটি আলটিমেটাম দেন।তিনি বলেন ২ মাসের মধ্যে যদি পাকিস্তান আমাদের শাসনত্রন্ত নআ দেয়,যদি আমাদের ৬ দফা মেনে না নেয় তাহলে আমরা সাধীন বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ শুরু করবো।এবং সেখান থেকে আমাদের যে আন্দোলন এর গতি তা আরো বেশি বেড়ে যায়।

১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ডক্টর শামসুজ্জোহা কেও হত্যা করা হয়।এবং শেষ পর্যন্ত শামসুজ্জোহার মৃত্যুর পর পরই ছাএজনতা এর মেনে নিতে না পেরে শান্দ্র আইন ভঙ্গ করে রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি চায়।এবং রাস্তায় নেমে আসে।এবং তার ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালে রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।আইয়ুব খান সে মুহূর্তে রীতিমত তাল হারিয়ে ফেলছিলেন।তিনি লেজ গুটিয়ে পালাবার অবস্থা।ইয়াহিয়া খান ইতিহাসের জঘন্য তম হত্যাকারী দের একজন।একজন গণহত্যা নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তি।ইয়াহিয়া খান এসময় ক্ষমতা দখল করেন।এবং সেখান থেকে আসলে শুরু হয় পাকিস্তানের গণহত্যার সে পরিকল্পনা।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ

আমরা ৭০-এর নির্বাচন সম্পর্কে জেনেছি হয়তো।১৯৯৭১ সালের মার্চ মাস শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।বাঙালীর জিবনের একটি দুর্দান্ত মাস।একই সজ্ঞে শোকেরও একটি মাস। ১লা মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন।এ অধিবেশন বাতিল হবার মাধ্যমে বাঙালীরা বুঝে যায়।যে এ রাষ্ট্র থেকে আমরা আর কোনে সুবিধা পাবো না।তাই ২ মার্চ প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।নতুন একটা বাংলাদেশের।
২মার্চ উৎলিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।তৎকালিক ডাকসুর ভিপি আসম আব্দুর রব কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়। ৩ মার্চ শাহজাহান কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতিহার পাঠ করা হয়।বাঙালীরা নিজেরাই স্বাধীনতার জন্য,যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

৭মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একটি ভাষণ দেন যা,কিনা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ গুলোর মধ্যে একটি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন রেসকোর্স ময়দানে এসে সবার সামনে তুলে ধরেন।এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।তিনি আরো আমাদের কে দিক নির্দেশনা দেন।আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।যদি তিনি হুকুম দিতে নাও পারেন।তবুও যাতে আমরা অস্ত্র নিয়ে যা আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকি।যে কোনো মুহূর্তে আমাদেরকে মুক্তি জন্য যুদ্ধ করতে হতে পারে।লক্ষ লক্ষ জনতা উপস্থিত ছিলেন।

১৫-২৫ মার্চ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইয়াহিয়া খানের মধ্যে বৈঠক হয়।এ ১০ দিনের মধ্যে ঝাকে ঝাকে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে।এবং একটি গণহত্যার প্রস্তুতি নেয়।এ ঘটনাটির পরে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম একটি নেক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।যার নাম অপারেশন সার্চলাইট।২৫শে মার্চ কালো রাএিতে নিরঅস্ত্র বাঙালীর উপর ঝেঁপে আসে।মাএ এক রাতের মধ্যে পঁচিশ হাজার নিরঅস্ত্র বাঙালীকে হত্যা করা হয়।সে একই রাতে শুরু হয় আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা।
১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।মুজিবনগর সরকারটি গঠিত হয়ে ছিলো শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশকে পরিচালনা করার জন্য এবং এ দেশে যে মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে।মুক্তিযুদ্ধকে পরিচালনা করার জন্য।

এটি গঠন করা হয় ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় অস্থায়ী ক্যাম্প অফিসঃ ৮নং থিয়েটার রোড,কোলকাতা।মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।তার অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।স্বরাষ্ট্র,ত্রাণ ও পূর্ণবাসন মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।অর্থমন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী।এই চার নেতার অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কত বড় তা বলে বুঝানোর মত না। ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃখের একটি দিন।যে দিন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যারা রূপকার হতে পারতেন মুনির চৌধুরী,সিরাজ উদ্দিন হোসেন,ডক্টর আলিম চৌধুরি এরকম সূর্য সন্তানদের কে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে এসে রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হয়।এ ১৪ই ডিসেম্বর আজও আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস হিসেবে পালন করি।

১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১বিকেল ৪টা ৩১মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিজয় এর উৎসব তা শুরু হয়ে গিয়েছিলো।পাকিস্তানি বাহিনী তখন বাংলাদেশ কে সারেন্ডার সাক্ষ্য দিয়েছে।স্বাধীন বাংলাদেশে,মুক্ত বাংলাদেশ,বিজয়ের বাংলাদেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here