সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস (১৯৫২-১৯৭১) পার্ট-১

0
36

তুমি যদি বাংলাদেশের ইতিহাসটা ভালো করে না জানো।তাহলে একজন এডমিশন টেস্টে তো ভালো করতে পারবে না।ভালো একজন নাগরিক ও হতে পারবে না।কারন একজন নাগরিক এর উচিৎ বাংলাদেশের ইতিহাস কে যানা।
অনেকে বলে থাকো ইতিহাস মনে থাকে না।এটা কি করে মনে রাখবো।আমরা যদি ইতিহাস কে গল্প মনে করে পরি। তাহলে আমাদের মনে রাখাটা সহজ হয়ে যাবে।

এখন গল্প কি করে মনে থাকবে এটা বলতে পারো।প্রতিটা গল্প মনে রাখার কিছু কৌশল আছে।
এখন আসি আমাদের বাংলাদেশর কিছু গুরুত্বপূর্ন দিন নিয়ে।আমরা অনেকে এই দিন গুলোর বেপারে একটি কম জানি।

বাংলাদেশর সৃতিসৌধতে যে ৭টা স্তম্ভ আছে তা নিয়ে কিছু কথা বলবো।

১.১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন
২.১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচন
৩.১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন
৪.১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন
৫.১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন
৬.১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
৭.১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ

এর একটা মজার কথা।আমরা তো টাকা দিয়ে অনেক কিছু কেনাবেচা করি।কিন্তু সব টাকার নোটে একটা জিনিশ আছে যা সব নোটে আছে। সেটা হচ্ছে সৃতিসৌধ।যা সব নোটে আছে।

আমরা জানি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে।এবং এিশলক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে।কিন্তু বাংলাদেশর মুক্তির যে ইতিহাস।যে গৌরবের ইতিহাস তা কিন্তু অনেক বড়।

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন

পশ্চিম-পাকিস্তান এর মানুষেরা।আমাদের যে ভাষা রয়েছে।আমাদের যে সংস্কৃতি রয়েছে।আমার তোমার যে মুখের ভাষা রয়েছে সেটাকে মেনে নিতে চাচ্ছিল না।তাই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ সর্ব প্রথম রাস্ট্র ভাষা উর্দু ঘোষণা করে।তিনি বলেন একমাএ রাস্ট্র ভাষা উর্দু হবে।১৯৪৮ সালে ২৫শে মার্চ রেসকোর্স ময়দানে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ সর্ব প্রথম বলেন রাস্ট্র ভাষা হবে উর্দু।বাঙ্গালী
মেনে নেয় নি।ঠিক তিনদিন পরে ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আবার ও ঠিক একই ভুল করলেন।তিনি আবার ও বললেন রাস্ট্র ভাষা উর্দি হবে।বাঙ্গালী ক্রমেই ফুঁসে উঠতে থাকলো।এবং এই ক্রোধ থেকেই ছাএ জনতা একএিত হতে শুরু করলো।

আবার ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমুদ্দিন আবার ঘোষণা দিলেন রাস্ট্র ভাষা হবে উর্দু।এই ঘটনাটি পরেই কিন্তু বাঙ্গালী একমত হয়ে যায়।তারা বলে যতই বাধা আসুক রাস্ট্র ভাষা হবে বাংলা।
পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে সর্বদলীয় রাস্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠে।সব রাজনৈতিক দল মিলে একএে এদল গড়ে ু সংগ্রাম পরিষদ আসতে আসতে সবাই একএিত করে তোলে।
তারপর ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সাল।আমরা এইদিনটি আসলে উৎসবে পালন করি।অনেকেই শোকে পালন করি।কিন্তু ইতিহাস কয়জন জানি।এই যে আন্দোলনটি এটি আসলে শুরু হয়েছিল ছাএদের মধ্য দিয়ে।১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য তারা জড় হয়েছিল আমতলায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ভবনের ঐই চত্বরে ছিল আমতলা।সেখান থেকে তারা মিছিল বের করে।ববর্তমানে যেখানে শহিদ মিনার রয়েছে সেখানটাতে তারা আসে।এবং সেখানে তাদের উপর গুলি বর্ষণ হয়।তাৎক্ষণিক সালাম,বরকত,রফিক, জব্বার যারা আছেন অনেকেই নিহত হয়।পরবর্তীতে তারা যখন শহীদ হয়ে গেলেন।শহীদ হওয়ার পরেই এই সেই প্রথম স্মৃতিসৌধ তৈরি হয় যা দিয়ে আমরা তাদেরকে স্মরণ করি।এখন এতগুলো বছর পরে সে ২১শে ফেব্রুয়ারি আজকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচন

পাকিস্তানের গণতন্ত্র কখনোই কিন্তু শক্ত মজবুত ছিলে না।বরং বাঙালিরাই বারে বারে গণতন্ত্রের যে দাবি টা সেটা কিন্তু সোচ্চার ভাবে জানিয়ে আসছিল।১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনটি ঠিক তারই একটি উদাহরণ।
১৪ই নভেম্বর ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।এবং এ যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে কৃষক শ্রমিক পার্টি।তার সাথে ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ।যা পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ নামে পরিচিত হয়।মাওলানা আতাহাব আলি নিজামের নেতৃত্বে ইসলামি পার্টি।এবং হাজী দানেশের নেতৃত্বে বামপন্থি গণতন্ত্রী দল।এইসব গুলি দল একএীত হয়।বাঙ্গালী যে অধিকার রয়েছে আদায় করার জন্য।

৮ই মার্চ ১৯৫৪ সালে এই নির্বাচনটি সংঘটিত হয়।এই নির্বাচনে সংখ্যা ঘনিষ্ঠা লাভ করে
যুক্তফ্রন্ট।পরবর্তীতে এই নির্বাচনটি বাতিল হয়।এ নির্বাচন বাতিল হবার কারণে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের যে সপ্ন ছিলো সেটি ভেঙে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here